ইতালি স্পন্সর ভিসা ২০২৬ আবেদনের সময়

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের কাছে ইতালি স্পন্সর ভিসা অনেক বেশি জনপ্রিয়। প্রতি বছর ইতালি সরকার ঘোষণা দিয়ে স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে দেশটিতে শ্রমিক নিয়োগ করে থাকে।

যদিও বাংলাদেশীদের জন্য এই ভিসা পাওয়া এখন অনেক কঠিন। তবে অনেকে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের সেনজেন দেশ ইতালিতে কাজ করতে যেতে চায়। এজন্য ইতালি স্পন্সর ভিসা প্রয়োজন।

এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে ইতালি স্পন্সর ভিসা ২০২৬ আবেদন সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়া ইতালি স্পন্সর ভিসা কী, আবেদনের সময়, বেতন ও খরচ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে পারবেন।

ইতালি স্পন্সর ভিসা কী?

ইতালি স্পন্সর ভিসা হলো এমন এক ধরনের কাজের ভিসা যেটি আবেদনকারীদের ইতালিতে বৈধভাবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের কাজ করার অনুমতি দিয়ে থাকে। এই ভিসা পাওয়ার জন্য স্পন্সর থাকা বাধ্যতামূলক।

এই স্পন্সর হতে পারে কোম্পানি, ইতালিতে অবস্থানরত কোনো ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্য। স্পন্সার ভিসা পেলে একসময় ইতালির নাগরিকত্ব পাবেন।

ইতালি স্পন্সর ভিসা ২০২৬ আবেদনের সময়

ইতালি তাদের শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে আগামী তিন বছরে (২০২৩–২০২৫) পাঁচ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেবে। এ লক্ষ্যে স্পন্সর ভিসার আবেদন শুরু হচ্ছে ২৩ অক্টোবর থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আবেদনকারীরা বিশ্বের ৩৮টি নন-ইউরোপীয় দেশ থেকে আসতে পারবেন।

২০২৬ সালের ‘ক্লিক ডে’ অনুষ্ঠিত হবে ১২ জানুয়ারি, ৯, ১৬ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি, যেখানে আগাম ফরম পূরণকারীরা সকাল ৯টা থেকে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

এবারের প্রক্রিয়ায় কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে শুধুমাত্র দক্ষ কর্মী ও বৈধ মালিক আবেদন করতে পারেন। ভিসা যাচাই হবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে, ফলে হয়রানি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে দালাল চক্র সক্রিয় থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ইতালি যেতে কত বছর বয়স লাগে

ইতালি স্পন্সর ভিসা ২০২৬ আবেদন

ইতালি স্পন্সর ভিসা ২০২৬ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য  ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ এর ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে হবে। গুগলে ‘ভিএফএস গ্লোবাল’  লিখে সার্চ দিলে ওয়েবসাইটটি চলে আসলে ভিজিট করবেন।

ইতালি সরকারের ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটটি ভিজিট করার পর ভিসা ক্যাটাগরি সিলেক্ট করে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ইতালি দূতাবাসে গিয়ে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্য ও ভিসা ফি দিতে হয়।

আরও পড়ুন: সরকারিভাবে ইতালি যাওয়ার উপায়

ইতালি স্পন্সর ভিসা বেতন কত ২০২৬

ইতালি স্পন্সর ভিসা মূলত কাজের ভিসা হিসেবে জনপ্রিয়। সিজনাল এই ভিসা পেলে ইতালিতে বৈধভাবে দীর্ঘদিন কাজের সুযোগ পাবেন। এই ভিসা পেলে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। যেমন: কনস্ট্রাকশন, ড্রাইভিং, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, শ্রমিক ইত্যাদি।

বর্তমানে ইতালি স্পন্সর ভিসা বেতন প্রায় ১.৫ লক্ষ টাকা থেকে ৩ লক্ষ টাকা হয়ে থাকে। তবে কাজের ক্যাটাগরি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও কাজের বয়স ইত্যাদির ভিত্তিতে ইতালি স্পন্সর ভিসা কত হবে সেটা পরিবর্তিত হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন: ইতালিতে বৈধ হওয়ার উপায়

ইতালি স্পন্সর ভিসা খরচ কত‌ ২০২৬

বাংলাদেশীদের জন্য ইতালি স্পন্সর ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে গেছে। প্রতিবছর ইতালিতে শ্রমিক সংকট দেখা যায়। এজন্য দেশটি স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে থাকে।

বর্তমানে থেকে স্পন্সর ভিসা নিয়ে ইতালি যেতে আনুমানিক ৭ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা লাগে। বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে স্পন্সর ভিসা নিয়ে ইতালি যেতে পারলে স্পন্সর ভিসা খরচ কম হয়। তবে বেসরকারিভাবে গেলে খরচ অনেক বেশি লাগে।

লেখকের পরামর্শ

ইতালি স্পন্সর ভিসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানতে ইতালি প্রবাসীদের সহযোগিতা নিতে পারেন। এছাড়া বিশ্বস্ত কোন এজেন্সির মাধ্যমে ইতালি স্পন্সর ভিসা ২০২৬ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। এই বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে অনলাইনে নজর রাখুন।

আরও পড়ুন: ইতালি ভিসা আবেদন লিংক

🌍 সম্পর্কিত এই আর্টিকেলগুলো আপনার পড়া উচিত!✈️
ইতালির ভিসা কবে খুলবে
ইতালি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
📌 ইতালি ভিসা খরচ কত
🆕 ইতালি বেতন কত
🔑 সরকারিভাবে ইতালি যাওয়ার উপায়

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top